‘আল-জাজিরার বিরুদ্ধে মামলা করব’

কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরা যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তার বিরুদ্ধে মামলা করার হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণ বুঝেছে আল-জাজিরার তথ্য মিথ্যা। সেটা আমরা দেখব। প্রতিবেদনে যেখানে তথ্যগত ভুল রয়েছে তা তুলে ধরব আমরা। এছাড়াও আমরা মামলা করব। তার জন্য কাজ করছি। শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

আল জাজিরা চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধ ও মামলা করার বিষয়ে সরকার কিছু ভাবছে কিনা এমনটা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আল-জাজিরায় প্রতিবেদন বের হয়েছে, আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিনি। তাকে এখন এসএসএফ গার্ড দেয়। তার ৪৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কখনো কোনো দিন কোনো বডিগার্ড ছিলো না। ওনার বডি গার্ড ওনার নেতা-কর্মীরাই। মায়া ভাই, আমু ভাই, সাবের হোসেন চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ এরাই ওনার বডি গার্ড। আমরা কোনো দিনও পয়সা দিয়ে বডি গার্ড রাখতে দেখিনি। প্রতিবেদনে লিখেছে ওনার দুই বডিগার্ড।

এছাড়াও মন্ত্রী তার চারপাশে থাকা লোকজনকে ইঙ্গিত করে বলেন, এখন আমার পেছনে অনেকেই দাঁড়িয়েছেন। তাদের সবাইকে কিন্তু আমরা চিনি না। নেত্রী বক্তৃতা দেয়ার সময় অনেকেই পেছনে দাঁড়ান। আমরা গণতান্ত্রিক দেশ। আমিও বক্তৃতা দেওয়ার সময় অনেকেই পেছনে দাঁড়ান। সেখান থেকে খুব কম লোককেই চিনি আমি। কিন্তু প্রতিবেদনে একজনের ছবি দিয়ে বলছে ওটা ওনার বডিগার্ড। এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে তারা। আল-জাজিরা টেকনিক্যালি জোড়াতালি দিয়ে, বানোয়াট তথ্য দিয়ে যা করেছে তাতে বাংলাদেশে তাদের গ্রহণযোগ্যতা আরও হারিয়েছে।

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন সেনা সরকার দেশটির রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে রোহিঙ্গারা সরকারের কাছে নিজেদের অবস্থা তুলে ধরেন। এ সময় মিয়ানমারের রাখাইনে থাকা রোহিঙ্গাদের ধাপে ধাপে অবস্থার পরিবর্তন হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন সামরিক কর্মকর্তারা। এ খবরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া কুতুপালংয়ের রোহিঙ্গাদের মধ্যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। এটি একটি ভালো খবর বলেও এ সময় জানান মন্ত্রী।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, মিয়ানমার সেনাবাহিনী বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে চিঠি দিয়ে সেনা অভ্যুত্থানের কারণ ব্যাখ্যা করেছে। ব্যাখ্যায় মিয়ানমার বলেছে, দেশটিতে গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১০ লাখের বেশি ভুয়া ভোট হয়েছে। এ অবস্থায় নির্বাচনে কারচুপির কারণেই সেনাবাহিনী ক্ষমতার পালাবদল ঘটিয়েছে।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.