সরিষাবাড়ীতে ব্রীজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে রেখে অবাধে বালু উত্তোলন

সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি ঃ জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের চর ধারাবর্ষা গ্রামের সৈয়দপুর হাইস্কুল ও কৃষ্ণপুর ব্রীজ হুমকির মূখে রেখে এবং ফসলি জমি নষ্ট করে অবাধে উত্তোলন করা হচ্ছে বালি। অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে প্রভাবশালী চক্রের সদস্যরা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে প্রকাশ্যে এমন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব তেমনি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে এলাকার রাস্তা ঘাট, স্কুল, ব্রীজ,জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা। তাদের এমন অবৈধ কাজ দেখার কেউ নেই। এলাকার সাধারণ কৃষকরা লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরেও নীরব ভুমিকা পালন করছে স্থানীয় প্রশাসন। এ বিযয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে সাংবাদিকরা ফোনে কথা বললে তখন তারা বলে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কিম্তু বাস্তবে মিলছে না প্রশাসনিক কোন তৎপরতা।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী সড়ক, কালভার্ট, বিভিন্ন স্থাপনার সর্বনিম্ন এক কিলোমিটারের মধ্যে নদী, খাল ও পুকুর থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা যাবে না। অথচ কামরাবাদ ইউনিয়নের চর ধারাবর্ষা সৈয়দপুর হাইস্কুল সংলগ্ন এবং কৃষ্ণপুর ব্রীজ থেকে ৪০ থেকে ৫০ গজের মধ্যে ঝিনাই নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে,উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের চর ধারাবর্ষা ঝিনাই নদীতে, রেলি ব্রীজ পাড় এলাকাসহ আওনা ইউনিয়নের তারাকান্দি জেডিঘাটে যমুনা নদীতে একিস্থানে প্রায় ৭ থেকে ৮ টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করে সেগুলো বাণিজ্যিক হারে বিক্রি করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ড্রেজার মেশিন মালিক জানান, নিচু জমি ভরাট, বাসা-বাড়ী ও নির্মাণ কাজসহ বিভিন্ন কাজের জন্য স্বল্প খরচে বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি করেন। দাম নির্ভর করে দুরত্বের ওপর।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, অবৈধ (ড্রেজার) মেশিন দিয়ে যদি কেউ বালু উত্তোলন করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.