- সরিষাবাড়ীতে যুবদল নেতার দাপটে গাছ কর্তন ও বাউন্ডারি ভাঙচুরের অভিযোগ - April 16, 2026
- সরকারি অবহেলায় বিপন্ন জনস্বাস্থ্য জলাতঙ্কের টিকা নিশ্চিত করুন - April 16, 2026
- টাঙ্গাইলের মধুপুরে ‘বি নিউজ মিডিয়া’র পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত - April 11, 2026

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা যুবদলের সদস্য শামীম আহমেদ নয়ন এর বাড়িতে পুলিশ পরিচয়ে বসত ঘরে থাকা আসবাবপত্রের জিনিসপত্র তছনছ করা সহ নগদ অর্থ খোয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টা থেকে রাত ২টার মধ্যে জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নের শিলকুড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বসতঘরে প্রবেশ করে ঘরের শোকেস তছনছ করে সেখানে রাখা আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিলকুড়িয়া গ্রামের হেলাল শেখের ছেলে শামীম আহমেদ নয়নের বাড়ির পাশে রাস্তা থেকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ৫ থেকে ৬ জন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে ডাকাডাকি করে। বাড়ির ভেতরেন থাকা নয়নের স্ত্রী সুমাইয়া ইয়াসমিন ও তার শাশুড়ি সামিরন বেগম ভয়ে সাড়া না দিলে অভিযোগ অনুযায়ী একটি টিনের দরজা ভেঙে তারা বাড়ির উঠানে প্রবেশ করে।
পরবর্তীতে সুমাইয়া ইয়াসমিন তার ১৬ মাস বয়সী ছেলে শাদাব আহমেদকে কোলে নিয়ে ঘরের দরজা খুলে দেন বলে তিনি জানান। অভিযোগে বলা হয়, ঘরে প্রবেশের পর ওই ব্যক্তিরা বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞাসাবাদ ও ভয় ভীতি প্রদর্শন করে এবং একপর্যায়ে ঘরের শোকেসের ড্রয়ার তছনছ করে সেখানে রাখা নগদ অর্থ নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় শিশুটিকে কোলে নিতে চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে শিশুটিকে আত্মীয় শেফালী বেগমের কাছে রেখে তিনি আত্মরক্ষার্থে বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর এলাকায় ও ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এ বিষয়ে শামীম আহমেদ নয়ন বলেন,
“৫ থেকে ৬ জন ব্যক্তি পুলিশ পরিচয়ে আমার বাড়ির টিনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ঘরের শোকেস তছনছ করে আনুমানিক ৫০–৬০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে বলে আমরা ধারণা করছি। আমার স্ত্রী ও মাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি এবং প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
ভুক্তভোগী সুমাইয়া ইয়াসমিন বলেন,
“স্বামীর অনুপস্থিতিতে রাতে কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাডাকি করে। আমরা দরজা না খুললে তারা টিনের দরজা ভেঙে উঠানে ঢোকে। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। আমার সন্তানকে নিতে চাইলে আমি প্রাণভয়ে পালিয়ে রক্ষা পাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
প্রত্যক্ষদর্শী শেফালী বেগম বলেন,
“পুলিশ পরিচয় দেওয়া কয়েকজন লোক শামীমের বাড়িতে ঢুকে তার স্ত্রীকে ভয়ভীতি দেখায়। পরে সুমাইয়া বাথরুমের কথা বলে পালিয়ে যায়।”
স্থানীয় নূরে মদিনা মাদ্রাসার পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান,
“পুলিশ পরিচয় দিয়ে কয়েকজন লোক ওই বাড়িতে এসে ডাকাডাকি ও ভয়ভীতি দেখিয়েছে বলে বৃহস্পতিবার সকালে শুনেছি। এতে এক নারী তার শিশুকে রেখে প্রাণভয়ে পালিয়ে রক্ষা পেয়েছে।”
এ বিষয়ে জামালপুর সদর উপজেলার নারায়ণপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মকবুল হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন,
“ওই এলাকায় একটি ওয়ারেন্ট তামিলের জন্য পুলিশ গিয়েছিল।”

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.