ধনবাড়ী–সরিষাবাড়ীতে সমবায়ের আড়ালে কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ, গ্রাহক হয়রানিতে ক্ষোভ

ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) ও সরিষাবাড়ী (জামালপুর) অঞ্চলে সমবায়ের নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ধনবাড়ী কলেজপাড়া রেজিঃ নং ট-ধ-২৩৮১/১৬ সয়া বাজার ধনবাড়ী নামে পরিচালিত মেয়াদী সঞ্চয় ও বিশেষ সঞ্চয় প্রকল্প এবং একই কার্যালয়ে পরিচালিত গ্রামীণ সেবা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড, রেজিঃ নং ট-ধ-৬৩—এই দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ আদায় করে তা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের বয়ড়া গ্রামের রিনা বেগমসহ একাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে বিশেষ সঞ্চয় ও ডিপিএসের নামে বিপুল অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়েছে। একইভাবে নদী আক্তার রুনার নিকট থেকেও অর্থ সংগ্রহ করা হয়। অর্থ আদায়ে সক্রিয় ছিলেন সমিতির ফিল্ড অফিসার শাহীন মিয়া, ম্যানেজার আব্দুল লতিফ সরকার, সিনিয়র অফিসার শাহাদাত হোসেন ও আনোয়ার হোসেন। তারা ধনবাড়ী ও সরিষাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নিয়মিত কিস্তি ও সঞ্চয়ের টাকা সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং প্রভাব খাটিয়ে কার্যালয় থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—উপজেলা সমবায় সমিতির কার্যালয় ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নেওয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তারা দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ জনগণকে ভুল বুঝিয়ে অর্থ আদায় করে সেই টাকা দিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে জমি ক্রয় ও বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, “আমাদের জমানো টাকা ফেরত না পেয়ে আমরা নিঃস্বের পথে। সমিতির কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার গিয়েও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা দেখতে পাইনি। এখন শুধু চোখের পানি ফেলার মতো অবস্থায় আছি।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষরা বলছেন নির্বাচনের আগে কোন টাকা-পয়সা লেনদেন নয় এবং তার আরো বলছেন আমাদের টাকা মাঠ পর্যায়ে আটকা পড়েছে তাই দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তারা। তবে সচেতন মহলের মতে, সমবায় ও সমাজসেবা বিভাগের তদারকির ঘাটতির সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে।
ভুক্তভোগী জনসাধারণ অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের টাকা উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা সতর্ক করে বলেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের প্রতারণা আরও বিস্তৃত হবে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়বে।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.