- সরিষাবাড়ীতে যুবদল নেতার দাপটে গাছ কর্তন ও বাউন্ডারি ভাঙচুরের অভিযোগ - April 16, 2026
- সরকারি অবহেলায় বিপন্ন জনস্বাস্থ্য জলাতঙ্কের টিকা নিশ্চিত করুন - April 16, 2026
- টাঙ্গাইলের মধুপুরে ‘বি নিউজ মিডিয়া’র পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত - April 11, 2026

আল-আমিন রাজু,
গ্রেপ্তারের পর আশরাফুল আলম দিপুর একের পর এক প্রতারণার নজির পাচ্ছেন গোয়েন্দারা। বয়স মাত্র ২০ বছর হলেও দিপুর এসব প্রতারণার ঘটনায় চমকে উঠছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। প্রতারণা করে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাশাপাশি মধ্যবয়সী নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক পাতানো ছিল তার কাছে নেশার মতো। তবে সম্পর্ক পাতানোই শেষ নয়; এসব নারীর কাছ থেকে আদায় করতো মোটা অংকের টাকা।
এনএসআইয়ের পরিচালক হিসাবে পরিচয় দেয়া দিপুর চেহারায় রয়েছে আভিজাত্যের ছাপ। পরনে দামি ব্রান্ডের পোশাক। চলাফেরা দামি গাড়িতে। থাকেন পাঁচ তারকা হোটেলে। এই বিলাস-ব্যসন দেখিয়ে তিনি করতেন প্রতারণা।
দিপুর অন্যতম টার্গেট ছিল সমাজের প্রতিষ্ঠিত ও শিক্ষিত নারীরা। বিশেষ করে মাঝবয়সী বিবাহিত নারীদের সঙ্গে নানা কৌশলে পরিচিত হতেন তিনি। নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দেয়া এই তরুণ ভালোভাবেই জানতেন নারীদের সঙ্গে ঘনিষ্টতার কৌশল। সেই কৌশল ব্যবহার করে বিবাহিত নারীদের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। এরপর তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের নামে বিশ্বস্ততা অর্জন করতেন।
সম্পর্ক গড়ে তোলার এক পর্যায়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিতেন দিপু। প্রতারণার শিকার নারীদের কাছ থেকে তিনি ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
এমনকি এসব নারীদের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে রাখতেন। পরে তাদের কাছ থেকে টাকা না পেলে এসব ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে তাদেরকে ব্লাকমেইল করতেন। দিপুর কাছে প্রতারণার শিকার নারীর সংখ্যা শতাধিক বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশের একটি সুত্র।
গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুবুল আলম নারীদের সঙ্গে দিপুর প্রতারণার বিষয়ে ঢাকাটাইমকে বলেন, দিপু যে সব মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে সেই তালিকায় অনেক নারী রয়েছেন। এসব নারীরা চাইলেও লোক-লজ্জার ভয়ে অভিযোগ নিয়ে আমাদের কাছে আসতে পারছেন না।
গোয়েন্দারা জানান, সমাজের শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন দিপু। তার বয়স ২০ বছর হলেও টার্গেট ছিল চল্লিশোর্ধ নারীরা। বিশেষ করে বিবাহিত নারীদের প্রতি ছিল তার আকর্ষণ। এসব নারীদের কাছ থেকে আপত্তিকর ছবি নিয়ে সেগুলো দিয়ে তাদেরকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাতেন।
গ্রেপ্তারের পর দিপুর কাছ থেকে ৮টি ফোন জব্দ করা হয়েছে। সেই সব ফোনে তার প্রতারণার বিভিন্ন ছবি, ভিডিওসহ বহু নারীর ছবিও পাওয়া গেছে। এসব নারীদের কাছে নিজেকে এনএসআইয়ের সহকারী পরিচালক বলে পরিচয় দিতেন দিপু। তাদের বিভিন্ন পারিবারিক সমস্যা সমাধানের কথা বলে বিশ্বস্ততা অর্জন করতেন।
গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বলেন, ভুক্তভোগী এক নারী আমাদের কাছে অভিযোগ করেছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।
গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত টাকা দিপু বিলাসিতা ও তার বড় দুই ভাইয়ের নামে সম্পত্তি কেনায় খরচ করতেন।
দিপুর প্রতারণার তথ্য জানাতে কোনো মোবাইল নম্বর বা ইমেইল দেয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতারক দিপুর বিরুদ্ধে যদি কোনো ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ দিতে চান তাহলে ডিবির কর্মকর্তাদের সরকারি মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করলেই হবে। ভুক্তভোগী নারী বা প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদেরকে আমরা আইনগত সহায়তা দেব।
জানা গেছে, দিপু ভোলা জেলার দক্ষিণ আইচা থানার উত্তর চর কলমি এলাকার আবদুল জলিল ফরাজী ওরফে মতু ফরাজীর ছোট ছেলে। বেশিদূর লেখাপড়া করতে পারেনি। মাত্র অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেই প্রতারণা বিদ্যার কৌশল রপ্ত করেন।
প্রতারণার শিকার হয়ে ভাটারা থানায় করা এক ভুক্তভোগীর মামলায় পল্লবী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। গ্রেপ্তারের পর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরো দুই দিনের জন্য রিমান্ডে এনেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.