চুরি হওয়া গরু উদ্ধার করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের নৃশংস হামলা: মালিকসহ আহত ১২

নিজস্ব প্রতিবেদক | সরিষাবাড়ী (জামালপুর): চুরি হওয়া মান্নতের গরু উদ্ধার করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সশস্ত্র ও নৃশংস হামলায় গরুর মালিকসহ অন্তত ১২ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের চর ডাকাতিয়া গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ও ভয়ংকর ঘটনা ঘটে।

যেভাবে চুরি ও সন্ধান: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের ছিন্না গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনের গোয়ালঘর থেকে দুটি ষাঁড় গরু চুরি হয়। ঘটনার পর ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করে একটি গরু ফসলি জমির মাঠে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে অন্য ষাঁড়টির সন্ধান মেলে মাদারগঞ্জ উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামের আব্দুল খালেকের বাড়িতে।

উদ্ধার অভিযানে সশস্ত্র হামলা ও অবরুদ্ধ: বুধবার সকালে সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন স্থানীয় লোকজনকে সাথে নিয়ে আব্দুল খালেকের বাড়িতে গরুটি উদ্ধারে যান। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় চোরচক্রের সদস্যরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রধান ফটক বন্ধ করে তাদের অবরুদ্ধ করে ফেলে। এরপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি কোপ ও পিটুনিতে আনোয়ার হোসেনসহ ১২ জন রক্তাক্ত জখম হন।

হামলায় আহতরা হলেন:

  • আনোয়ার হোসেন (৫০, সাবেক ইউপি সদস্য). জুলফিকার (১৯) , রনি মিয়া (৪৪) , শিপন মিয়া (৪২), লিটন মিয়া (৩৫), জুয়েল মিয়া (৩৬), সজীব মিয়া (২৩), হৃদয় (১৬), রাকিব মিয়া (২৮),

  • রুবেল মিয়া (৩২) , আঃ ছালাম ফকির (৪৭), শফিকুল ফকির (৪৮),

এলাকাবাসীর সাহসী উদ্ধার অভিযান: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আদারভিটা ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা এবং ইউপি সদস্য বেলাল হোসেন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাদের সাহসী হস্তক্ষেপে অবরুদ্ধরা প্রাণে রক্ষা পান। তারা আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং গরুসহ ভুক্তভোগীদের নিরাপদে নিজ গ্রামে পৌঁছে দেন। স্থানীয়দের এই উদ্যোগ না থাকলে প্রাণহানির মতো বড় ঘটনা ঘটতে পারত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইফতারের মান্নতের গরু: হামলায় আহত সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, “গরুটি আমি রোজাদারদের ইফতার করানোর জন্য মান্নত করেছিলাম। আগামী শুক্রবার সেটি জবাই করার কথা ছিল। চুরি হওয়ার পর আমি ভেঙে পড়েছিলাম। আল্লাহর রহমত ও এলাকাবাসীর সাহসিকতায় গরু ও জীবন—দুই-ই ফিরে পেয়েছি।”

পুলিশের বক্তব্য ও জনমনে প্রশ্ন: এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, “ঘটনাটি আমার জানা আছে। তবে এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে পুলিশের এমন মন্তব্যে স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের এমন সশস্ত্র ও নৃশংস হামলার ঘটনায় পুলিশ কেন শুধুই লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায় থাকবে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। জননিরাপত্তা রক্ষায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

এলাকাবাসী অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং চোরচক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.