মেসের রাঁধুনীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের জেরেই খুন

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে দুর্গম চরাঞ্চলে গার্মেন্টস কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পুলিশ এ হত্যা রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি জড়িত দম্পতিকেও গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি জানায়, শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে কাছে আসতে বাধ্য করা হতো মেসের রাঁধুনীকে। হাতে-পায়ে ধরেও নিস্তার পাননি তিনি। একদিন সবকিছু জেনে যায় তার স্বামী। এরপর স্বামী-স্ত্রী মিলে হত্যার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত গার্মেন্টস কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরকে। গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে পিঠার সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর বালুচরে নিয়ে বাটখারার আঘাতে স্বামী ও স্ত্রী মিলে হত্যা করেন তাকে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার হুমায়ুন কবির (৪২) বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মেহেরাবাড়ি এলাকায় সুলতানা সুয়েটার্স লিমিটেড নামের একটি কারখানায় সহকারী উৎপাদন ব্যবস্থাপক ছিলেন।

গ্রেফতার দম্পতি হলেন নাছির উদ্দিন (৩৬) এবং তার স্ত্রী নাজমা আক্তার (৩৪)। নাছিরের বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলায়। নাজমার বাবার বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে। তারা দুজন ভালুকা উপজেলার মেহেরাবাড়ি এলাকায় ভাড়া থাকতেন।

পুলিশ জানায়, গত রোববার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চল কালিকাপুর থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় লাশের পাশে ওই ব্যক্তির মোবাইল ফোন এবং একটি পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। এর সূত্র ধরেই প্রথমে হুমায়ুন কবিরের পরিচয় শনাক্ত হয়। পরে নিহতের ভাই শহিদ দেওয়ান দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান(প্রশাসন ও অপরাধ) এবং শিবালয় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানিয়া সুলতানা। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানিয়া সুলতানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামেন।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.